ষ্টাফ রিপোর্টার,৭ জুলাই, ২০২৬ (বিবিনিউজ ) : ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পাটির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশস্থলে ভয়াবহ ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে নস্যাৎ করতেই পরিকল্পিত ভাবে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত নয়টা। সাভার থানা রোডের তরাপুর ঈদগাহ মাঠে চলছিল এনসিপির পথ সমাবেশ। বক্তব্য রাখছিলেন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ। ঠিক তখনই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চ লক্ষ্য করে চালানো হয় ককটেল হামলা। মুহূর্তেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সমাবেশ, শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি। রক্তে ভিজে যায় সভাস্থলে কয়েকজন। সমাবেশ সংক্ষিপ্ত আকাওে শেষ হয়।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাঠানো হয় পাশের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হামলার পরপরই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক ভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাভার থানা ঘেরাও করেন দলীয় বিক্ষোদ্ধ নেতাকর্মীরা।
কেন্দ্রীয় নেতা জানান,”এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আমাদের মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এর দায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং বিএনপি নেতাদেরকেই নিতে হবে। আওয়ামীলীগ যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের দোসরদেরও একই পরিণতি হবে।”
সাভার থানায় মামলা ও হাসপাতালে রোগীদেও দেথে সাংবাদিকদের আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি আরো জানান,গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে যারা ভয় পায়, তারাই এই কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। সমাবেশ শুরুর মুহূর্তে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এই হামলার পথ তৈরি করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিটি ঘটনার হিসাব নেব।”
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন শিল্পী। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পথসভায় পুলিশ মোতায়ন থাকলেও ঘটনার পর নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরের গাড়ীর সামনে এবং পিছনে পুলিশের গাড়ী ছিল।এসিপির পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের জন্য ঢাকা জেলা অতিরিক্তি পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে প্রথান করে ৩ সদস্যেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের একাদিক টিম ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে।
“ঘটনার পরপরই আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
একটি গণতান্ত্রিক দলের প্রকাশ্য সমাবেশে ককটেল হামলা নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী দল ও স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে, জননিরাপত্তায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। সাভারে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
